June 1, 2026, 10:28 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মাত্র ১০ দিনে পদ্মা ও যমুনা সেতু থেকে ৬৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার টোল আদায়ের তথ্য আবারও প্রমাণ করল যে বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো বিনিয়োগ শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকেই বদলে দেয়নি, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু নিয়ে একসময় যেসব সংশয় ও সমালোচনা করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান সেসব বক্তব্যকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন চলাচল করেছে এবং সেখান থেকে ৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে। অন্যদিকে যমুনা সেতু থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট টোল আয়ের সিংহভাগ এসেছে পদ্মা সেতু থেকে, যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সেতুটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন।
পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় অনেকেই এবং আরও কয়েকজন অর্থনীতিবিদ প্রকল্পটির ব্যয়, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য লাভজনকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, বিপুল অর্থ ব্যয় করে নির্মিত এই সেতু প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ফল দেবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউ কেউ এটিকে অগ্রাধিকারের ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন ব্যয় কমেছে, সময় সাশ্রয় হয়েছে এবং শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঈদযাত্রার মতো বড় জনসমাগমের সময়ও সেতুটি দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাত্র ১০ দিনের টোল আয়ই দেখিয়ে দেয় যে সেতুটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অবশ্য শুধু টোল আয় দিয়েই একটি মেগা প্রকল্পের সাফল্য বিচার করা যায় না। এর প্রকৃত মূল্য নিহিত থাকে আঞ্চলিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বহুমাত্রিক প্রভাবের মধ্যে। পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত রাজধানী ও অন্যান্য বাজারে পৌঁছাচ্ছে। পর্যটন, শিল্প এবং সেবা খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান।
ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক ডজন কোটি টাকার রাজস্ব আদায় শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। যে প্রকল্পকে একসময় ‘অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক’ বা ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলা হয়েছিল, আজ তার বাস্তব সুফল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে দৃশ্যমান।
সুতরাং পদ্মা সেতুর সাম্প্রতিক টোল আয়ের হিসাব কেবল একটি আর্থিক সাফল্যের গল্প নয়; এটি সেইসব নেতিবাচক পূর্বাভাসেরও জবাব, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাবনাকে অবমূল্যায়ন করেছিল। সময়ই প্রমাণ করেছে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ।